Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Sunday, July 13, 2014

প্যালেস্টাইন আমার রক্তস্নাত বেলাভূমি




কুয়াশার চাঁদরে ঢাকা পৃথিবীকে ঘিরে 
অমীমাংসিত চুক্তি হয় মানুষের রক্তের বিনিময়ে। 
জ্বলে বিশ্বায়নের সুশৃঙ্খল স্থিতির দশদিগন্ত,
জ্বলে গাজা উপত্যকার কোমল নারী ও শিশুরা!

আজো ক্রুশেবিদ্ধ যিশুর রক্তের দাগ শুকায়নি
আজো জেরুজালেমে, নিকৃষ্ট জালেমদেরই 
অস্ত্রের মহড়ায় কম্পিত যীশুর বক্ষ!
আজো ফোঁটা ফোঁটা রক্ত বাতাসে বাতাসে
প্যালেস্টাইন আর জেরুজালেমের আকাশ প্রদক্ষিণ করে।

রক্তাক্ত আজ আরব সাগরের স্বচ্ছজল
প্রতিশোধের পীড়িত বিষক্রিয়া নিষ্ক্রিয় করে 
মানবতার সর্বশেষ প্রভাবটুকুও।
মানুষের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানের এমন বিষাদময় প্রবণতা 
কেবলই লূ-হাওয়ায় প্রতিশ্রুত হয়।

আমাদের পৃথিবী, একান্তই কামনার সুশীতল আবাসভূমি 
আজ ধীরে ধীরে অস্পৃহ হয়ে যাচ্ছে;
বিষাক্ত বাতাসে উড়ছে বেঁচে থাকার শেষ ইচ্ছেটুকু
অন্ধকারে কালো আবরণে বিলুপ্ত হচ্ছে প্যালেস্টাইনের আকাশ! 

কিসের আয়োজনে সীমানা বর্ধিত হয় রক্তের বিনিময়ে!
মানুষের বিরুদ্ধে হিংসার বৈরী  সহিংসতা
পুড়ে নিপুণ বিশ্বাসের আঙিনা, রক্তাক্ত হয় 
মরুভূমির চিক চিক বালুকণা। 
শিশু-কিশোর কলম ফেলে বুক পেতে রাখে তাক করা
অস্ত্রের মুখে। 
বিষাক্ত কার্বনিক ধোঁয়ায় নিঃশ্বাস গ্রহণে
মৃত্যুর ওপারে জীবনের স্বাদ নিতে আয়ুষ্মান হয়!

যিহোবা অথবা ঈশ্বর কি দেখছেন?
আজ বিশ্বাস বিন্যাস্ত হচ্ছে, ধর্মীয় মহিমা দ্বিধান্বিত!
তবে কি গাজার মানুষের রক্তের সাথে 
যিশুর রক্তের কোন মিল নেই?
ঈশ্বর তোমাকেই জবাব দিতে হবে আজ।
যিহোবা যেমন করে উঠিয়ে নিয়েছিলে যিশুকে
আবার ফিরিয়ে দাও, আজ আবার যিশুকেই 
ফিরিয়ে দিতে হবে গাজা উপত্যাকায়।

স্বর্গের সিঁড়িতে বসে বিধাতা হাসেন;
তিনি দেখছেন, তাঁর দৃষ্টি স্ফীত হয়না!
নৃপতি, তিনি পরিত্রাণ খুঁজেন বিগ্রহ নিসর্গে।
বিকলাঙ্গ সভ্যতা, জরাগ্রস্ত মনুষ্যালয়!  
মানবতা মানে আবাবিলের প্রত্যাশায়
আর করজোড়ে মহাশূন্যে দু’হাত উত্তোলন 
করবেনা। 

বিধাতা, তুমি স্বর্গের প্রাসাদে বসে
জীবনের বিনিময়ে জীবন নিয়ন্ত্রণ করো
তুমি উচ্চাসনে আসীন সর্বশক্তিমান
আমি তোমার শক্তির পরীক্ষায় নতজানু,
প্রকম্পিত বিস্ফোরণের আতংকে তুমিও
আতংকিত হও, মানুষের রক্তে স্বর্গের দেয়ালে 
অঙ্কিত হোক- 'শ্বেত ঘরের' শক্তিধর প্রতিচ্ছবি।

Saturday, July 12, 2014

মানুষ

মানুষ


মানুষ হয়ে মানুষ হত্যা
এ কোন ধর্ম হায়
মানুষেরে মেরে উল্লাস করা
এ কোন মানুষ চায়!
এমন হিংস্র মানসিকতা
ধর্মেই শুধু হয়
শিশুর মৃত্যু ফিলিস্তিনে
মানুষ কেমনে সয়!
জেহাদ কিংবা ক্রসেড নিয়ে
গর্ব করে যারা
বুঝেনা কেনো এসব যুদ্ধে
শিশুরাও যায় মারা!
ঈশ্বর এমন নিরব কেনো
নিরব কেনো বিবেক
বিশ্ব জুড়ে প্রতিবাদে লোক
মিছিলে হয়না এক!
বাচাও মানুষ বাচাও শিশু
মানবতা গড়ে আজ
এক্যবদ্ধ হয়ে সমাজ
ভাংগো ধর্ম রাজ।


লন্ডন ১১ জুলাই ২০১৪

Friday, July 11, 2014

যাকে তুমি নাম দিয়েছিলে-বৃষ্টি

What you named-Rain
By Syed Rumman
===============================================
(If you think I would be scared while I am talking to the cloud
Then you will be mistaken
As the cloud is the ultimate expression of my feeling - 
What you named-Rain!)
শঙ্খবীণা,
মেঘের সাথে কথোপকথনের সময় যদি ভাব আমি ভয় পাব
তাহলে তুমি ভুল করবে
কারণ-ও মেঘ আমারই অনুভূতির অন্তিমপর্ব
যাকে তুমি নাম দিয়েছিলে-বৃষ্টি!

শঙ্খবীণা,
যখন তুমি আসবে বলে আর এলে না
আমাকে বললে আর ভালোবাসবে না
আমার মাটির ঘরে আর সলিতার প্রদীপ জ্বালবে না,
বিলাসিত করে সাজাবে আপন সভ্যতা, কড়ির নির্দয় ভুবন
ধূলোকে উপেক্ষা করে হবে তুমি স্রেফ চোষণলোভী পালংকের সম্রাজ্ঞী,
যখনই দেখি সে-ই তুমি অভাবিত প্রথাবদ্ধ নিদারুণ কুশীলব
তখনই কেবল আমি মেঘের সাথে কথা বলি
কারণ ও মেঘ আমারই অনুভূতির অন্তিমপর্ব
যাকে তুমি নাম দিয়েছিলে-বৃষ্টি!

শঙ্খবীণা,
ভুল তো আমিই করেছি
ভুল করে করে সূঁচের ফোঁড়ে হচ্ছি জর্জরিত, দহনে ক্ষরিত,
ভুল তো মানুষই করে, নাকি মানুষেরা ভুল করে না?
কাছে তো ডাকে মানুষই, নাকি মানুষেরা কাছেই ডাকে না?
ভালো তো বাসে মানুষই, নাকি মানুষেরা ভালোইবাসে না...!

শঙ্খবীণা,
মেঘের সাথে কথোপকথনের সময় যদি ভাব আমি ভয় পাব
তাহলে তুমি ভুল করবে
কারণ-ও মেঘ আমারই অনুভূতির অন্তিমপর্ব
যাকে তুমি নাম দিয়েছিলে-বৃষ্টি!


শঙ্খবীণা,
আকাশের বুকে হাত রেখে বলেছিলে-
ভালোবেসে মানুষ হারেও না, হারায়ও না,
শুধু রয়ে যায় দীপ্তিমান শিখা হয়ে।
তবে কি আমি ভালোবেসে আজ হেরে গেছি,
তবে কি তুমি আজ আমাকে হারিয়ে দিয়ে 
আকাশের বুকে ধরবে নৈঃশব্দের পেখম, হেলেনের 
বালখিল্যতা, নাকি তুমি নিজেই হবে মোনালিসা-আমাকে
করে দিয়ে মিকাঈলের সহচর, ভারাক্রান্ত প্যারিস!

আমার নীল আকাশে আজ মেঘ জমতে শুরু করেছে!

শঙ্খবীণা,
আলোর ঘরে আজ শুধু আঁধারের খেলা, গুলিবিদ্ধ প্রজাপতির 
ত্রস্ততা, জলবন্দি মানুষের ব্যর্থতার মিছিল, বিষণ্ন হৃদয় জুড়ে 
কার্তিকের দহন, শূন্যতার বাড়াবাড়ি-কাড়াকাড়ি...
আর নগর দলিত-মথিত করে জলের সরব পাঠ-
তুমি নেই, তুমি নেই, আজ শুধু এইখানে-তুমি নেই...

তবু মেঘের সাথে কথোপকথনের সময় যদি ভাব আমি ভয় পাব
তাহলে তুমি ভুল করবে
কারণ-ও মেঘ আমারই অনুভূতির অন্তিমপর্ব
যাকে তুমি নাম দিয়েছিলে-বৃষ্টি!



১২. ০৩. ০১
মৌলভীবাজার

কবিতাপাড়ার মেয়ে


কবিতাপাড়ার মেয়ে

সমুদ্রকে সাক্ষী রেখে একদিন আমরা
দুজন বদল করেছি ছায়া;-- ছায়া নিয়ে কে যায় পাহাড়ে?
আমাদের সঙ্গে হাঁটে উলুময়  অরণ্যসন্ন্যাস :
বাতাসে নিঃস্বাস ফেলে নদী একা কেন যে ঘুমায়?
নদীর চোখের নিচে সূর্য এসে শিশুর আনন্দে

উলঙ্গ পরীর মতো কুড়িয়েছে আমাদের ছায়া
আমরা পাহাড় ছেড়ে নেমে আসি নিশ্চেতন দ্বীপে--
আমি  রৌদ্র কুড়িয়েছি; তুমি কেন কুয়াশা কুড়োলে?
কুয়াশা দখল করে আমাদের যৌথ ছায়ামুখ;
অদূরে লণ্ঠন জ্বেলে জেগে আছে অভিন্ন হৃদয়;
পউষের হিমাগারে পড়ে আছে কবি ও কবিতা;
কে এসে আমার বুকে তুলে দেবে শ্রাবণের মেঘ?
সমুদ্র পাহাড়ে উঠে বসে আছে তোমার ছায়ায়--

কতটা নিঃসঙ্গ হলে তাকে তুমি ফেরৎ পাঠাবে?

কবিতা

স্থিতি ও বিস্তার
শিরদাঁড়ায় স্পষ্ট টের পাচ্ছি তোমার স্থিতি আর অমোঘ বিস্তার
এক শুক্লপক্ষ রাতে
ওয়ার্ফ নদীর নিগুঢ় স্রোত-রন্ধ্রে অঙ্কুরিত হয়েছিলো যে ঘুমগাছ
সরক্ত সংশ্লেষনে কী গভীর ছায়াবতী হয়ে উঠেছে আজ!


উন্মাদ ঘোড়ায় চড়ে, দিগ্বিদিক ধুলো উড়িয়ে
 বরং একদল পাহাড়-দস্যু এখোন আমাকে ছুড়ে ফেলে যাক
পর্বতের নিকষতম কোনো গুহায়...
 শিরদাঁড়ায় তো রয়েছেই তোমার স্থিতি

 আর গুহার অন্ধকার ভেদ করেও আমি জানি
 টপ টপ করে ঝরে পড়বে তোমার সিন্ধু সিন্ধু সুর
 বিন্দু বিন্দু ঘ্রাণ আর রক্তধৌত আলো


 ক্ষোভ

 আজ রাতে কায়সারকে শুইয়ে রাখবো নিজের কোলে
 চুলে বিলি কেটে ঘুম পাড়াবো মালহাম কোভের শিয়ালগুলি ডেকে ওঠার আগেই

 ইতিপূর্বে এক দীর্ঘ আত্ম-হনন পর্ব অথবা মৃত্যু-চুম্বনের শেষে
 ঘুমিয়ে পড়েছিলাম আমার মৌন দেবীর সঙ্গে একই বিছানায়
 শুনেছি ঘুমের ভেতর নাকি
 দাঁতের সঙ্গে দাঁত পিষে কড়কড় শব্দ তুলেছি সারারাত
 সুইচ টিপে বাতিগুলি নিভিয়ে দেবার পর
 আমার মুখ নাকি অন্ধকারে নয়;
 ঢেকে গিয়েছিলো অজস্র বল্লমবিদ্ধ নক্ষত্রের ছায়ায়
 আর সিডিতে শুবার্টের ভায়োলিন থেমে যাবার পরও
শ্বাস পতনের সঙ্গে নাকি বেজে উঠেছিলো ধাবমান আর্ত খুরের শব্দ
বিলুপ্ত সব সমুদ্রের ঢেউ বাহিত হাহাকার!

 আজ রাত এইসব আর্তনাদ, এইসব ঘুম পাড়ানো ছায়া
 নেড়েচেড়ে দেখবো নিজ হাতে
আর দেখবো, দাঁত কড়কড় করার পেছনে কি লুকিয়ে আছে
 কতিপয় পুঁজিবাদী কৃমির ষড়যন্ত্র
 নাকি
 দেবীর ধমনীর সঙ্গে মিশে যেতে না পারার প্রমত্ত ক্ষোভ!

দায়........

দায়........

সত্যির সাথে মিথ্যের বিয়েটা আমিই দিয়েছিলাম
কখন,কেন,কিভাবে জানতে চেওনা
অজান্তেই মানুষ তার জানা জানা অনুভূতিগুলো খুব সহজেই ভুলে যায়
ভুলে যায় সম্ভাবনার সমন্নুত হাওয়া
ধূলোহীন স্বাভাবিক চাওয়া
ক্রমান্বয়ে অনেক কিছু পাওয়া ।
আবেগী স্নানে প্রেমিকের ঠোঁটে সিগারেটও তখন বেশ মানায়
জন্মদাতার ভাবাভাবিকে ডাস্টবিনে ফেলে
রহস্যময়ী ভালোবাসার পাজল মেলাতে
দিব্যি মাতে বর্তমান
মাদকহীন কোন এক মাদকতার টানে ।
তারপর সে এক লাল নীল শুরু
আলোহীন সময় বড় বেমানান মনে হয়
প্রশান্তির উঠোনে বুনে রাখা সাফল্যের বীজ
একেকদিন জন্ম দেয়
একেকটি বিকৃত ক্যাকটাস ।
ওরা আষ্টেপিষ্টে চেটে খায় মন
লাবণ্যময়ী বয়স,টুকরো টুকরো ভলোবাসা
এভাবেই কাটে দিন কেটে যায় কাটাতে হয় ।
তবুও হঠাৎ রাতে ভেঙে গেলে সবগুলো ঘুম
সাদাকালো কিছু মুখের কথা মনে পড়ে
পুকুরঘাটের পোয়াতি ঢেউয়ের কথা মনে পড়ে
লুকিয়ে খাওয়া একমুঠো আচারের কথা মনে পড়ে
হেরিকেনের তাপে অকারনেই ঝলসে দেয়া কলমের কথা মনে পড়ে
মেয়াদ উত্তীর্ন কিছু স্বপ্নের কথা মনে পড়ে
বইয়ের শেষপাতায় লিখে রাখা কবিতার কথা মনে পড়ে ।
সত্যিমিথ্যার বিয়েটা যেদিন ভাঙবে
সেদিন প্রজাপতিরা রঙ বদলাবে
চিরচেনা হতদরিদ্র বৃক্ষটি
সবুজ শাড়িতে নিজের লজ্জা লুকোবে
মেঘেরা অবধারিত অবরোধ তুলে
আদর ঝরাবে সবখান জুড়ে
আর স্বার্থপরেরা আবার নাকি মানুষ হবে ।
সেদিন হয়তো আমিও মুক্তি পাবো
মুক্তি পাবো অসংখ্য কুড়িঁ হত্যার দায় থেকে
অবলিলায় ছুড়ে দেয়া অবমাননার দায় থেকে
সজ্ঞানে ছিঁড়ে ফেলা চকচকে কিছু ভবিতব্যের দায় থেকে ।

আমারও মন পড়ে থাকে

আমারও মন পড়ে থাকে


উদয় শংকর দুর্জয় 

আমারও তো মন পড়ে থাকে 
শিকড়ে লাগে টান 
মেঠো সুর দখিনা সমীরণ হৃদয়ে 
উজানেতে তুলে পাল 

জ্যোৎস্নার ফুল কুয়াশা ভেজা মন 
বকুল বিশুদ্ধ ঘ্রণ 
সোনা ঝরা ক্ষেত বিপুল বৈভব 
আবেগে মাতাল প্রাণ 

বৃষ্টির মেঘ কাদামাটি পথ 
কৃষকের প্রিয় উদ্যান 
পাখি রব রূপোলী ভোর যত 
হৃদয় বড্ড উচাটান 

নির্ঘুম রাত সময় ফ্রেমে বাঁধা 
বিষণ্ণ মন দূরাকাশ 
তবু এপারে অধেক বেঁধেছি বাসা 
সুখবিসুখ এই পরবাস

আমাকে যত্ন করে খোলার মন্ত্র জানো?



কবিতা মানে কল্পনার পর্বতে বসা গর্দভের অলস অপকর্ম!
এমনটাই বলা হয়েছিল আমায় ৷
অথচ আমি জানি,
কবিতা মানে জীবনের কার্নিশে দাঁড়িয়ে জীবন দেখা ৷
যেন প্লাবিত বন্যায় ভেসে থাকা সংগ্রামী কাগুজে নৌকা ৷

কবিতা মানে বিহৎ বিশ্বের এককালীন বিশ্বনাশ ৷
সফেদ ফেনার আস্তরে ঢাকা জলের সঙ্গীতে বাস ৷
কবিতা মানে হৃদয়ে খোদিত অনবরত শব্দের ইতিহাস ৷

কবিতা মানে শ্মশানের পাশেই গড়ে ওঠা পানশালা ৷
কবিতা মানে সক্রেটিসের পোষা দৈত্য ' লেলু'র চুম্বক কথামালা ৷

কবিতা মানে রোমের দুঃসময়ে বাজানো নিরোর হর্ষ বেহালা ৷
কবিতা মানে কৌমুদী রাতে চিত্ত ক্ষুধার জ্বালা ৷

কবিতা মানে ক্রোধে জ্বলে ওঠা চেতনার অগ্নিশিখা ৷
কবিতা মানে সামাজিকতার ঐক্য -অনৈক্যের জরাবস্থা ৷

কবিতা মানে মানবতার পরমায়ু আর রক্ত-সংলগ্ন যক্ষ্মা ৷
শোষণের প্রতিবাদে ক্রমে গড়ে ওঠা মধুমক্ষিকা- রচিত বাসা ৷

কবিতা মানে জীবনের ভবিষ্যত আর ভবিষ্যতের ভূতপূর্বাবস্থা ৷
কবিতায় নীতিবোধ, সভ্যতা আর তারুণ্যের দ্রোহের ক্ষমতা ৷

কবিতা মানে উদ্দীপ্ত আবেগে দীপ্ত বামপন্থী বস্তুবাদের সূত্র ৷
ফুটপাতের অনাহারের প্রতিবাদে বিলাসী অপচয়ের প্রথাবিরুদ্ধতার মন্ত্র ৷

কবিতা মানে রক্ত মাংস থেকে জন্ম নেয়া একটি ভালোবাসা, একটি শিশু 
কিংবা সংবেদনহীন কঠিন শিলা, শূণ্যতায়ও যার হারাবার নেই কিছু ৷

কবিতা মানে ধবধবে শাড়ি পড়া নারীর বিসর্জন ৷
কবিতা মানে তোমার আমার খুনসুটি অকারণ ৷

কবিতা মানে প্রথম বৃষ্টিতে ভেজা চুম্বনরত ঠোঁট ৷
কবিতা মানে থীবসের মন্দিরে দাঁড়িয়ে থাকা দেবী টাইকের অন্ধ দুচোখ ৷

তাই আহবান করি—
যদি কবিতার বিশালতাকে বুঝতে চাও ,ভালোবাসতে চাও; 
তবে এসো, কাব্যের শব্দকে করো অনুভব ৷
সবল, দুর্বল প্রতিটি শব্দ প্রবল আগ্রহে জানতে চায় ;
আমাকে কী বুঝ ? আমাকে যত্ন করে খোলার মন্ত্র জানো? 

যদি না বুঝ,তবে এড়িয়ে যাও ৷দুর্বৃত্তের মতো হানা দিওনা ৷
চাবি ছাড়া সিন্দুক ভাঙ্গা যায় ৷
শব্দানুভূতি ছাড়া কবিতা বোধগম্য নয় ৷

আঙরার আগুন

আঙরার আগুন

ভ্রান্তি বিলাসে তোমাদের ধুমায়িত সন্ধ্যা
আমি বরং ঘুমিয়ে থাকি
তোমরা সুখে রও।
হৃদয় পচা গন্ধের উৎপাতে
অপদস্ত আমার স্বতন্ত্র নিবাস
আরক্তিম চোখের বিষাক্ত ছোবলে
আহত ভঙ্গুর পথ।
জলে স্থলে জন্তু জানোয়ারের সুখ কাড়াকাড়ি
খিলবন্ধ্ বোধি সত্ত্বায় চিল শকুনের আনাগোনা
আর্শ্চয এক ধোঁয়ার গোলক ধাঁধাঁ মানুষ।
তোমাদের শৈল্পিক উঠনে
কোকিল মুখোশের আলোকচিত্র প্রদর্শনী
মেঘের স্পর্শে জ্বলে উঠে
কামাসিক্ত পঙ্গপাল শরীর।
জ্বলন্ত আঙরা দগ্ধ হতে হতে
যদি ঘুম ভাঙ্গে কোন দিন
তোমাদের গ্রাস করবে নিখাদ মৃত্যু ক্ষুধা।

নস্টালজিয়া...

 শহর থেকে একটু দুরে লাক্কাতুরা মালনীছড়ার টিলা
সেই টিলাতে হারিয়ে যেতাম,রোজ বিকেলে আমি এবং নীলা।
নুড়িপাথর পা’য় মাড়িয়ে,সরু পথে একটু গিয়ে বামে
আমরা দুজন হারিয়ে যেতাম,রোজ বিকেলে লুকোচুরির নামে।
শিরিষ গাছের চিরল পাতায় শেষ বিকেলে সূয্যের্র আলো পড়ে
সবুজ বনে অবুঝ মনে ভালোলাগার সুবাস দিতো ভরে।
খেলার ছলে দুজন মিলে বন জঙ্গলে হারিয়ে গেলে রোজ
মা ভাইয়েরা বকতো ভীষন, সন্ধ্যা হলে করতো সবে খোঁজ।
বুঁনো ফুলের গন্ধ ভরা,বাঁধন ছাড়া সেদিন গুলো কই?
অট্রালিকার ভীড়ে এখন,সে সব মনে পড়লে অবাক হই।
উথাল পাথাল ছন্দ মাতাল হারিয়ে যাওয়া সেই কিশোরীর মন
আমায় ডাকে হাত ইশারায় সকাল দুপুর সন্ধ্যা সারাক্ষন
নীলা নামের সেই কিশোরীর আজ জানিনা কোন সুদুরে বাস
কিন্ত তাকে পড়লে মনে, আমার উঠে উথলা নিঃশ্বাস...।