Friday, July 11, 2014

কবিতা

স্থিতি ও বিস্তার
শিরদাঁড়ায় স্পষ্ট টের পাচ্ছি তোমার স্থিতি আর অমোঘ বিস্তার
এক শুক্লপক্ষ রাতে
ওয়ার্ফ নদীর নিগুঢ় স্রোত-রন্ধ্রে অঙ্কুরিত হয়েছিলো যে ঘুমগাছ
সরক্ত সংশ্লেষনে কী গভীর ছায়াবতী হয়ে উঠেছে আজ!


উন্মাদ ঘোড়ায় চড়ে, দিগ্বিদিক ধুলো উড়িয়ে
 বরং একদল পাহাড়-দস্যু এখোন আমাকে ছুড়ে ফেলে যাক
পর্বতের নিকষতম কোনো গুহায়...
 শিরদাঁড়ায় তো রয়েছেই তোমার স্থিতি

 আর গুহার অন্ধকার ভেদ করেও আমি জানি
 টপ টপ করে ঝরে পড়বে তোমার সিন্ধু সিন্ধু সুর
 বিন্দু বিন্দু ঘ্রাণ আর রক্তধৌত আলো


 ক্ষোভ

 আজ রাতে কায়সারকে শুইয়ে রাখবো নিজের কোলে
 চুলে বিলি কেটে ঘুম পাড়াবো মালহাম কোভের শিয়ালগুলি ডেকে ওঠার আগেই

 ইতিপূর্বে এক দীর্ঘ আত্ম-হনন পর্ব অথবা মৃত্যু-চুম্বনের শেষে
 ঘুমিয়ে পড়েছিলাম আমার মৌন দেবীর সঙ্গে একই বিছানায়
 শুনেছি ঘুমের ভেতর নাকি
 দাঁতের সঙ্গে দাঁত পিষে কড়কড় শব্দ তুলেছি সারারাত
 সুইচ টিপে বাতিগুলি নিভিয়ে দেবার পর
 আমার মুখ নাকি অন্ধকারে নয়;
 ঢেকে গিয়েছিলো অজস্র বল্লমবিদ্ধ নক্ষত্রের ছায়ায়
 আর সিডিতে শুবার্টের ভায়োলিন থেমে যাবার পরও
শ্বাস পতনের সঙ্গে নাকি বেজে উঠেছিলো ধাবমান আর্ত খুরের শব্দ
বিলুপ্ত সব সমুদ্রের ঢেউ বাহিত হাহাকার!

 আজ রাত এইসব আর্তনাদ, এইসব ঘুম পাড়ানো ছায়া
 নেড়েচেড়ে দেখবো নিজ হাতে
আর দেখবো, দাঁত কড়কড় করার পেছনে কি লুকিয়ে আছে
 কতিপয় পুঁজিবাদী কৃমির ষড়যন্ত্র
 নাকি
 দেবীর ধমনীর সঙ্গে মিশে যেতে না পারার প্রমত্ত ক্ষোভ!

No comments:

Post a Comment