Friday, July 11, 2014

দ্যুতি

দ্যুতি

কে তুমি লাবণ্যময়ী? তুমি কি যাদুমন্ত্রে
করেছ বশীভূত আমায়!
কুহেলিকা কোনো?
মায়াজালে বিস্তার করো সমগ্র আমাকে?
কী এমন সুষমামণ্ডিত অপার সৌন্দর্যের খনি
প্রলেপ দিয়েছে মেখে তোমার তিনটি অক্ষরের
লাবণ্যময় শরীরে?

পৃথিবীর সবচেয়ে মনোহারী নাম, সবচেয়ে
প্রিয় ধ্বনি, সবচেয়ে প্রিয় নাম 'লাবণ্য' আমার
তোমাকে কিভাবে অভিষিক্ত করি?
তোমার নামের ঐশ্বর্যে লাবণ্যমণ্ডিত হই আমি
সিক্ত অনুরাগে রঞ্জিত হয় আমার আনন্দ-বেদনা
মধুর-বিধুর হৃদয়ের অন্তরতমা!

তোমার প্রতিটি অক্ষর ছুঁয়ে যায়
আমার নিমগ্ন ধ্যানের রোমাঞ্চিত শরীর!
তাই হৃদয়ের সবটুকু উষ্ণতা দিয়ে নিশিদিন  
ব্যাপৃত থাকি তোমার পরিচর্যায়, তোমার
সুবর্ণ পালক রাখি ঝলমলে উজ্জ্বল পরিপাটি করে।

তোমাকে রক্ষা করি আমি ধূলোর প্লাবন থেকে,
তোমাকে আগলে রাখি আমি আলোর কড়া
উত্তাপ থেকে
একটি হীরকখণ্ডের মত তোমাকে রাখি আমি
হৃদয়ের নিভৃতে সবচেয়ে গোপন সিন্দুকে গুপ্তধনের
মহিমায়!

'লাবণ্য' নামটি তুমি যেন একান্তই আমার!
তাইতো বাইরের এই আলোকিত পৃথিবীর মানুষের
সামনে তোমাকে বের করে আনতে চাইনে আমি,
এই বুঝি অপহৃত হয়ে যাবে তুমি! কোনো
কাব্যিক দস্যু এসে নিয়ে যাবে তোমাকে আমার
কাছ থেকে!

তোমার নামের স্বর্ণের হার পরিয়ে দেবে কোনো
নবজাতিকার কন্ঠদেশে!
আমি যেন পরশ্রীকাতর, স্বার্থপরের মত তোমাকে
আগলে রাখি!

আমার হৃদয়ের উত্তাপ আর স্নেহের শীতল ছায়ায়
তুমি আমাতেই হও বিকশিত! লাবণ্য আমার প্রিয়
দ্যুতিময় নাম।

তোমাকে কীভাবে দিই আমার হৃদয়ের আবেগ?
ভালোবাসার নাকি প্রেমের?
স্নেহের ফল্গুধারার নাকি মমতার মায়াবী আঁচল?
নাকি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলী?

যেভাবেই হোক তোমাকে রেখেছি বুকে একটি জনম
আমি উষ্ণতার নিবিড় আবেগে
বিনিময়ে তুমি দাও আমাকে
প্রতিদিন আনন্দের
অশ্রুবিন্দু, বিষাদের শিশির,
একখণ্ড মেঘ, নীলিমার
নীল ধ্রুবতারা।

শেষের কবিতার মত এক অনিঃশেষ কবিতা!

No comments:

Post a Comment